ধূমপাণ কেন করি

 ধুমপান ক্ষতিকর, তবও মানুষ কেন ধুমপান করে


সিগারেটের অপর নাম মজা



কোন সিগারেট কোম্পানিকে অন্যান্য পণ্যের মত প্রচার-প্রচারণা করতে হয় না। বলতে হয় না এই ব্রান্ড অন্যটার চেয়ে বেশি ভাল বা মজাদার।  তারপরও এর বিক্রি কিন্তু থেমে থাকে না। ক্রেতা কিন্তু ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে তার পছন্দের ব্রান্ড। মজার ব্যাপার হল আপনি যদি ধুমপায়িকে তার ধুমপানের কারণ জিজ্ঞাসা করেন তাহলে সে বলবে-ধূমপান যে পরিমাণে মানুষিক প্রশান্তি দেয়, সেই পরিমাণ মানসিক চাপও প্রয়োগ করে। এর স্বাদকে বর্ণনা বা পরিমাপ করা যায় না। ধূমপান থেকে যে পরিমাণ প্রশান্তি পাওয়া যায়, অন্য কিছু থেকে সেটা সম্ভব নয়।


সিগারেটের অপর নাম মজা:

আপনি যদি জানতে চেষ্টা করেন মানসিক চাপটা আসলে কি? দেখতে পাবেন এটা আসলে চিরাচরিত প্রত্যাশা বা চাহিদা, আর তা হল নিজেকে প্রকাশ করা। আপনি দেখবেন আমরা কেউই কখনও আমাদের শৈশবে সম্পূর্ণরূপে বেড়ে উঠিনা; আমরা সবসময় ভাবনাহীন আনন্দ খুঁজে বেড়াই। আমাদের বেড়ে উঠার সময় আনন্দগুলো সময়ের প্রয়োজনে কাজের এবং নিরলস প্রচেষ্টার অধীনস্থ হয়ে পড়ে। ধূমপান, এ সময় আমাদের অনেকের কাছে পূর্ণতা বা স্বাধীনতার বিকল্প হিসেবে আসে যা খুব তাড়াতাড়িই  অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।পরবর্তীতে বৈধ উপায়ে  কাজে বিঘ্ন ঘটানো ও সময় চুরি করার একটা সুন্দর অজুহাত হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়। আমরা কাজ করার সময় বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারি এবং ধূমপানের সমপরিমাণ সময় বিশ্রাম নিয়ে পুনঃরায় সতেজ হয়ে উঠতে পারি, কিন্তু ধূমপান ছাড়া শুধুমাত্র বসে বিশ্রাম নেয়া চিন্তা করতে পারিনা। আসলে ধূমপানটা মজার অজুহাত!



সিগারেট দৈনন্দিন জীবনের পুরস্কার:

আমাদের অধিকাংশই আমরা পুরস্কারের জন্য লালায়িত! সিগারেটও এক প্রকার পুরস্কার যা আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রত্যাশা-পূরণের জন্য খেয়ে থাকি। যখন আমরা ভাল কিছু করি, একটা সিগারেট দিয়ে নিজেদেরকে কনগ্র্যাজোলেট করি, যার মানে আমরা ভাল ছেলে হিসেবে নিজেদের সার্টিফাই করি। আমরা আমাদের নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করি- যখন আমি এই কাজটা শেষ করব বা যখন আমার রিপোর্টের শেষ পৃষ্টা লেখা হবে  তখন একটু মজা করব, একটা সিগারেট খাব।

দিনের প্রথম ও শেষ সিগারেট হল উল্লেখযোগ্য উপহার। দিনের প্রথম পুরস্কারের প্রত্যাশা নাস্তার ঠিক পরে।ধূমপায়ীকে সারাদিন অনেক কাজ করতে হবে, আর শরীরটাকে কাজের উপযোগী করার জন্য শুরুতেই একটা সিগারেট প্রয়োজন। এটা একটা কাজ সহজি করন অগ্রিম পুরস্কার। আর দিনের শেষ সিগারেট হল ঘুমানোর ঠিক আগে, মানে আনুষ্ঠানিক ভাবে দিনের কার্যক্রম শেষ করা।

ধূমপানের কিছু নির্দিষ্ট সময় লক্ষ করা যায়, যেমন- কাজ শেষ ও শুরুর সময়, কারণ অকারণে কাজের বিরতির সময়, কোন সাব-ওয়ে থেকে বের হওয়ার মুহূর্ত, ক্ষুধার্তের সময়, নিজের  প্রয়োজন ছাড়াই অন্যকে ধূমপান করতে দেখলে মনে হয় আমারও প্রয়োজন,এছাড়াও অনেক সময় আছে। 


No comments:

Post a Comment

WAZIPOINT:
Thank you very much to visit and valuable comments on this blog post. Keep in touch for next and new article. Share your friends and well-wisher, share your idea to worldwide.